আখাউড়া স্থলবন্দরের রফতানি কার্যক্রম বন্ধ
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের রফতানি কার্যক্রম।
শনিবার থেকে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলে ও সেটি হচ্ছে না। তবে কবে নাগাদ চালু হচ্ছে সেটা জানতে ১৬ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)সহ প্রায় ৩০০ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার রির্পোট আসার পর রফতানি বাণিজ্যের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা।
.png)
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
করোনা সংকটে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আখাউড়া স্থলবন্দরের সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য। প্রতিদিন অন্তত প্রায় কোটি টাকার পণ্য রফতানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় পাথর, সিমেন্ট, মাছ, শুঁটকি, ভোজ্যতেল, প্লাস্টিক ও ফলমূলসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে দৈনিক কয়েক কোটি টাকার পণ্য রফতানি হতো।
করোনাভাইরাসের কারণে ২৪ মার্চ হঠাৎ করে পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভারতজুড়ে চলা লকডাউনের কারণে দেশটির অন্য রাজ্য থেকে পণ্য সরবরাহ না বন্ধ থাকায় পুনরায় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মাছ ও ফলমূল আমদানিতে আগ্রহ দেখান সেখানকার ব্যবসায়ীরা।
পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি শুরু হয়। প্রথমে শুধু মাছ রফতানি হয়। এর কিছুদিন পর অন্যান্য পণ্যও রফতানি স্বাভাবিক হয়।
বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কর্মাসের ত্রিপুরা চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায় জানায়, গত ৬ জুন আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দরে কর্মরত বিএসএফ জওয়ানসহ ইমিগ্রেশনে কর্মরত কিছু কর্মীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। করোনা রোগী শনাক্তের পরই ভারত সরকার আগরতলা স্থলবন্দরকে লকডাউন ঘোষণা করে।
রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে ত্রিপুরা সরকারের তরফে আগরতলা স্থলবন্দরকে স্যানিটাইজ (জীবাণুমুক্ত) করতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য আমদানি রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করা হয়। পরে বন্দরে কর্মরত বিএসএফসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ শুরু হওয়ায় আমদানি রফতানি বাণিজ্য চালু করা যায়নি।
করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ শেষ না হওয়ায় কখন সীমান্ত বাণিজ্য চালু হবে তা নিশ্চিত করে তিনি বলতে পারছেন না।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের ব্যাপক প্রভাব পড়ে বন্দরের রফতানি বাণিজ্যে। মার্চ মাসে ২৩ হাজার ১৩৪ মেট্রিক টন বিভিন্ন পণ্য রফতানি হয়; যার মূল্য ৫৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
এপ্রিল মাসে রফতানি হয় ৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন পণ্য। আর মে মাসে রফতানি হওয়া ১৫ হাজার ৫৫৮ মেট্রিক টন পণ্যের মূল্য ছিল ২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এদিকে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টে বিএসএফসহ প্রায় ৩০০ জনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার জেরে আবারো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে রফতানি বাণিজ্য।
ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে বেশ কয়েকটি পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদন এক কোটি টাকার পণ্য রফতানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সরকারও রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বন্দরের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতে রফতানির পরিমাণ পূর্বের চাইতে অনেকাংশে কমে গেছে। এর মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের আক্রান্তের ঘটনায় পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বন্দরে পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএসএফসহ বন্দরের কর্মকর্তাদের করোনা রির্পোট আগামী মঙ্গলবার আসার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কার্যক্রম বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
তিনি আরো জানান, করোনার কারণে অর্ধেকের নিচে নেমেছে রফতানির পরিমাণ। আমাদের আর্থিকভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে আখাউড়া স্থলবন্দর স্যানিটাইজ করার জন্য ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিয়েছে। জীবণুমুক্ত করতে সুরক্ষা সামগ্রী আনা হচ্ছে।
তিনি জানান, করোনা আতঙ্কে ভারতীয় ব্যবসায়িরা স্থলবন্দরমুখী হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগ পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাণিজ্য চালু হবে না বলেও তিনি ধারণা করছেন। আমরা প্রস্তত আছি। তারা যখনই বলবেন আমরা রফতানি কার্যক্রম শুরু করতে পারব। স্থলবন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রফতানী খ্যাতে দেশের প্রধান স্থলবন্দর হিসেবে খ্যাত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ছোট ছোট ব্যবসাী ও শ্রমিকরা অর্থ সংকটে পড়েছে। দ্রুত বন্দরের ব্যবসায়ী বাণিজ্য চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, করোনার কারণে রফতানির পরিমাণ অনেক কমেছে। এছাড়া চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাত্রী পারাপারও বন্ধ রয়েছে। এতে করে সরকার প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।